প্রকাশিত: ৩ ঘন্টা আগে, ১১:২২ এ এম
অনলাইন সংস্করণ
মোঃ সবুজ হোসেন
সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশন (এসডিএফ) শত কোটি টাকার হরিলুট হয়েছে বলে বিভিন্ন মাধ্যমে জানা গেছে।
মুক্তিযুদ্ধ এবং স্বাধীনতা বিরোধী চক্রের হোতা এসডিএফ 'র চেয়ারম্যান এবং ব্যবস্থাপনা পরিচালককে গ্রেপ্তার করা হতে পারে এমন আভাস মিলেছে ।
তথ্যানুসন্ধানে জানা যায়
পাঁচ বছরের প্রজেক্টে কর্মরত কর্মচারী ও কর্মকর্তাদের ঠিকভাবে বা কাঠামো অনুয়ায়ী বেতন না দিয়ে বছরের পর বছর হয়রানী করেছেন। এসডিএফ-এর চেয়ারম্যান সাবেক ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলা ও সাবেক এনবিআর চেয়ারম্যান ড. আব্দুল মজিদ ও তার নিকটস্থ কর্মকর্তারা সাকুল্য প্রায় পাঁচ শত কোটি টাকার সিংহভাগই পকেটস্থ করেছেন তারা।
২০০০ সাল থেকে শুরু হওয়া এসডিএফ প্রকল্পটিতে এবারই দুর্নীতির পরিমাণ বেশি হয়েছে বলে জানান প্রকল্পের চাকরিচ্যুত কর্মকর্তারা।দেশের দরিদ্র এবং অতিদরিদ্র মানুষের জীবনমান উন্নয়নে বিশ্ব ব্যাংকের আর্থিক সহায়তায় ২০০০ সালে এসডিএফ প্রকল্পটি চালু হয়। সূত্র জানায়, এসডিএফ প্রকল্প চালুর পর প্রায় সাড়ে তিন শত কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগ দেয়া হয়। প্রকল্পের শেষে ঐ কর্ম কর্তাগন আর একটি নতুন (B STRONG) প্রকল্পে যোগদান করানোর কথা থাকলেও তাদের বাদ দিয়ে প্রকল্পের শুরুতেই নিয়োগের ক্ষেত্রে বড় ধরনের দুর্নীতি করে প্রকল্পের কাজ শুরু করেন এসডিএফ-এর বর্তমান চেয়ারম্যান ড. আব্দুল মজিদ। শুরুতেই নিয়োগ বাণিজ্যের নামে কয়েক কোটি টাকা হাতিয়ে নেন একটি চক্র। অন্যদিকে ৫ বছরের মেয়াদ পূর্বের (এসসিএমএফপি) কাজ শেষ হয়েছে নভেম্বর ২৫ সালে। অথচ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রভিডেন্টফান্ড (পিএফ) ও গ্র্যাচুইইটি (জিএফ)-এর অর্থ এখনো প্রদান করা হয়নি।চাকুরিচ্যুত কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা গতকাল মঙ্গলবার সকাল ১০টায় এসডিএফ-এর প্রধান কার্যালয়ে তাদের পাওনা পিএফ ও জিএফ-এর টাকা পাওয়ার জন্য সেখানে ব্যানারসহ অবস্থান নেয়। কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের অভিযোগ ৫০০ কোটি টাকা প্রকল্পের সিংহভাগই পকেটস্থ করেছেন বর্তমান চেয়ারম্যান ড. আব্দুল মজিদ ও তার নিয়োগকৃত এমডি নুরুল আমিন।প্রকল্পের অর্থ আত্মসাৎ ছাড়াও কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সঠিকভাবে বেতন (কাঠামোমত) না দিয়ে সেখানেও প্রতি মাসে কয়েক লাখ টাকা পকেটস্থ করেছেন। এ ব্যাপারে কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারী মুখ খুললে তাদের চাকরি হারাতে হতো। এসডিএফ'র এমডি নিয়োগের ক্ষেত্রে কোন বিবিবিধান না মেনেই বর্তমান এমডি নুরুল আমিনকে অবৈধভাবে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। প্রকল্প থেকে ব্যাপক লুট-পাট করার জন্য চেয়ারম্যান ড. আব্দুল মজিদ (কাঠামোতে ৬০ বছর বয়সসীমা থাকার কথা থাকলেও) তিনি ক্ষমতা বলে ৬২ বছরের নুরুল আমিনকে নিয়োগ দেন। ক্ষমতার অপব্যবহার করে দেয়া এ নিয়োগ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। এসডিএফ প্রকল্পে দক্ষ বা বিশেষ দক্ষ অফিসার থাকার পরও বর্তমানে দায়িত্ব রত একজন অদক্ষ প্রকল্প পরিচালক কে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। কয়েক বছর আগে অবসর প্রাপ্ত অদক্ষ এ ব্যক্তিকে অনেকটা জোর করে এ প্রকল্পের নিয়োগ দেয়ার মূল বিষয় ছিল মিলেমিশে হরিলুট করা। এ ছাড়া রিলাই প্রকল্পের শুরুতেই ৩২০০টি গ্রামের জন্য ৩২০০টি ল্যাপটপ ক্রয় করার কথা থাকলেও ইজিপির মাধ্যমে টেন্ডার আহ্বান করা হয় এবং টেন্ডার মূল্যায়ন করে সর্বনিম্ন দরদাতা প্রতিষ্ঠান থেকে ১৬ কোটি টাকার ল্যাপটপ কেনার চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য অর্থ মন্ত্রণালয়ের প্রেরণ করা হয়। এরপরই এ প্রকল্পে নিয়োগ পান ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলা ড. আব্দুল মজিদ। শুরু হয় লুটপাট পর্ব । ড. আব্দুল মজিদ যোগদানের পর পরই তার একান্ত আপনজন অবসরপ্রাপ্ত নুরুল আমিনকে নিয়োগ দিয়ে কোন টেন্ডার ছাড়াই পিআর ২০০৮ পিপিএ ২০০৬ ইউপিপির সকল নিয়ম বাদ দিয়ে ARK Solution নামের একটি নাম সর্বস্ব ভূইফোড় প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ১ লাখ ১৭ হাজার টাকা করে ল্যাপটপ কেনা হয়। সেখানে দেখা গেছে যেখানে ল্যাপটপ কেনা যেত ৬০/৭০ হাজার টাকার মধ্যে সেক্ষেত্রে প্রতিটি ল্যাপটপ কেনা হয় ১ লাখ ১৭ হাজার টাকার। যা দ্বিগুনের ও বেশি এবং অতিনিম্নমানের। প্রতিটি ল্যাপটপট থেকে প্রকল্প চেয়ারম্যান ও এমডি ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকা করে আত্মসাৎ করেছেন বলে নানা বিশ্লেষণে উঠে এসেছে। নিম্নমানের মেয়াদোত্তীর্ণ ল্যাপটপ কেনার পর বিভিন্ন জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় ব্যাপকভাবে লুটপাটের খবর প্রকাশিত হয়, পরে বিশ্বব্যাংক কর্তৃক একটি তদন্ত টিম গঠন করা হয়। এসসিএম এফপি প্রকল্পের সকল কর্মকর্তার বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে একটি মামলাও করা হয়েছে। মামলাটি চলমান। প্রকল্পের নিয়ম অনুযায়ী বলা আছে সাধারণত এক প্রকল্প শেষ হলে ঐ প্রকল্পের অভিজ্ঞ স্টাফদের নতুন প্রকল্পে নিয়োগ দেয়া হবে। এতে নতুন প্রকল্পের কাজ দ্রুত ও সঠিকভাবে সম্পন্ন হয়। কর্মীদেরও কর্মসংস্থান ঠিক থাকে। নতুন প্রকল্পে একেবারে নতুন লোক নিয়োগের ক্ষেত্রে ও বিশ্বব্যাংকের বাধা নিষেধ রয়েছে। কেননা দক্ষ জনবল দিয়ে কাজ করাতে চায় বিশ্বব্যাংক, কিন্তু ড. আব্দুল মজিদ সাড়ে ৩ শত কর্মচারী-কর্মকর্তাকে বাদ দিয়ে তাদের পাওনাদি সঠিকভাবে পরিশোধ না করে নতুন প্রকল্পে এ নতুন নিয়োগ দিচ্ছেন। এই নতুন নিয়োগের ক্ষেত্রেও রয়েছে পেছনে ব্যাপক অবৈধ বাণিজ্য।একটি বিশ্বস্থ সূত্র জানায়, অফিস পরিবর্তনের ক্ষেত্রেও বর্তমান চেয়ারম্যান আসবাবপত্র ক্রয়ের নামে কয়েক কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। নতুন অফিসের সরঞ্জামাদির নামে কয়েকটি প্রতিষ্ঠানকে নিয়ম বর্হিভূতভাবে কাজ দিয়ে জিএম প্রশাসন, ডিজিএম নিরীক্ষা ও ডিজিএম টেকনিক্যালকে দিয়ে ব্যাপক অর্থ লুটপাট করানো হয়। এছাড়া বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনে আহতদের সহায়তার নামে নিজ স্বার্থ বাতিল করেছেন। উক্ত ফ্যান্ড থেকে বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনের শহীদ ও আহত পরিবারের নাম করে তার ব্যক্তিগত কাজে কয়েক কোটি টাকা লোপাট করেছেন চেয়ারম্যান। এ ব্যাপারে এসডিএফ-এর কর্মরত কর্মকর্তা ড. শহীদুল ইসলাম জানান, ৯ নভেম্বর এসডিএফ প্রকল্পের কাজ শেষ হয়েছে। ইতিমধ্যে কর্মকর্তা-কর্মচারী বেতন প্রভিডেন্ট ফান্ড (পিএফ) গ্র্র্যাচাইটি (জিএফ)-এর অর্থ পরিশোধের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে ।প্রকল্পের ব্যাপক অনিয়ম সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি কোন কথা বলতে রাজি হননি। তবে প্রকল্পের চেয়ারম্যান ড. আব্দুল মজিদ-এর সরকারী দপ্তরে পেলে তাকে পাওয়া যায় নি। তার মুঠো ফোনে একাধিকবার ফোন দিলেও তিনি তা রিসিভ করেন নাই। আমাদের মত দেশে পথ অপচয় একটা স্বাভাবিক নিয়ম হয়ে দাঁড়িয়েছে। অন্তত সাবেক এনবিআর চেয়ারম্যানের এ ধরনের কর্মকান্ড করা উচিত ছিল না।আইনের দৃষ্টিতে এগুলো অনেক অপরাধ। বিশেষ করে সমাজে ভদ্রবেশী কিছু মানুষ রয়েছে যাদের ভেতরের দিকটা কদর্যময় তাদের যেন কোনভাবেই অন্যায় কর্মকান্ডের জন্য ছাড় দেয়া না হয় এটাই বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে মানুষের প্রত্যাশা। বিষয়টি অর্থ মন্ত্রণালয়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলো। দ্রুত তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে এটাই সচেতন নাগরিক সমাজের বিশ্বাস।
মন্তব্য করুন