প্রকাশিত: ৭ ঘন্টা আগে, ১০:২২ এ এম

অনলাইন সংস্করণ

চট্টগ্রাম চেম্বারের নির্বাচন

নতুন তফসিল ঘোষণার নির্দেশনা এফবিসিসিআই সালিসি ট্রাইব্যুনালের

বিজনেস ফাইল প্রতিবেদক
 শতবর্ষী বাণিজ্য সংগঠন চট্টগ্রাম চেম্বারের নির্বাচনী তফসিল বাতিল করে নতুন তফসিল প্রণয়ন ও ঘোষণার নির্দেশনা দিয়েছে এফবিসিসিআইর সালিসি ট্রাইব্যুনাল। তবে নির্বাচন নিয়ে এখনো জটিলতা পুরোপুরি কাটেনি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

কারণ হিসেবে তাঁরা বলছেন, নির্বাচন সংক্রান্ত উচ্চ আদালতে চলমান মামলা, চেম্বারের সংঘবিধি সংশোধন, ভোটার তালিকা হালনাগাদসহ বিভিন্ন বিষয় এর সঙ্গে জড়িত। 
বুধবার (২২ এপ্রিল) এফবিসিসিআই সালিসি ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান মিসেস নাসরিন বেগম এবং সদস্য এএসএম কামাল উদ্দিন ও  ছায়েদ আহম্মদ এফবিসিসিআই আরবিট্রেশন ট্রাইব্যুনালে ২০২৫ সালের ১১, ১২ ও ১৩ নম্বর মামলার সিদ্ধান্ত বা রোয়েদাদে নির্দেশনা দেন।
 
নির্দেশনায় বলা হয়েছে, সালিসি রেফারেন্সসমূহ প্রতিপক্ষগণের বিরুদ্ধে দো-তরফাসূত্রে খারিজ বা নামঞ্জুর করা হলো। উল্লেখ্য, সালিসি রেফারেন্স ১০/২০২৫ দরখাস্তকারীর প্রার্থনা মোতাবেক ২০২৫ সালের ৮ এপ্রিল প্রত্যাহারের মাধ্যমে এবং আজ সালিসি রেফারেন্স ১১, ১২ ও ১৩/২০২৫ একত্রে নিম্নেবর্ণিত দফা ‘ক’ এবং ‘খ’-তে প্রদত্ত নির্দেশনার আলোকে নিষ্পত্তি করা হলো।

মামলাগুলোর বাদী চট্টগ্রাম চেম্বারের অ্যাসোসিয়েট সদস্য এসএম নুরুল হক, অর্ডিনারি সদস্য মুহাম্মদ বেলাল ও মুহাম্মদ আজিজুল হক। 
‘ক’ দফায় বলা হয়েছে- চট্টগ্রাম চেম্বারের ২০২৫-২৬ ও ২০২৬-২৭ মেয়াদে নির্বাহী কমিটি বা পরিচালনা পর্ষদ নির্বাচনের উদ্দেশ্যে ঘোষিত নির্বাচনী তফসিলটি আইনগত ও বিধিসম্মত ছিল না এবং তা ইতিমধ্যে সময়োত্তীর্ণ হয়েছে বিধায় ২০২৫ সালের ১১ আগস্ট ঘোষিত নির্বাচন তফসিলটি বাতিল করা হলো।
 
‘খ’ দফায় বলা হয়েছে- নির্বাচন প্রক্রিয়া যাতে স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও অংশগ্রহণমূলক হয় সে লক্ষ্যে বাণিজ্য সংগঠন আইন, ২০২২ ও বাণিজ্য সংগঠন বিধিমালা ২০২৫ এর সংশ্লিষ্ট বিধি-বিধান অনুসরণ করে একটি নতুন নির্বাচনী তফসিল প্রণয়ন ও ঘোষণা করার জন্য এতদসংশ্লিষ্ট সবাইকে নির্দেশনা দেওয়া হলো। 

সূত্র জানায়, ৫ আগস্টের পর স্বৈরশাসন ও পরিবারতন্ত্র থেকে মুক্ত করার দাবিতে সাধারণ ব্যবসায়ীদের বিক্ষোভের মুখে চিটাগাং চেম্বার প্রেসিডিয়াম ও পরিচালকরা পদত্যাগ করেন। নিয়োগ করা হয় প্রশাসক।

গত ১১ আগস্ট চিটাগাং চেম্বারের ২০২৫-২৬ এবং ২০২৬-২৭ মেয়াদের পরিচালকমণ্ডলীর নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় (বাণিজ্য সংগঠন-১) কর্তৃক গঠিত নির্বাচন বোর্ড। গত ১ নভেম্বর নির্বাচনের তারিখও নির্ধারণ করা হয়েছিল। চট্টগ্রাম চেম্বারের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, সাধারণ শ্রেণি থেকে ১২ জন, সহযোগী শ্রেণি থেকে ৬ জন এবং টাউন অ্যাসোসিয়েশন ও ট্রেড গ্রুপ শ্রেণি থেকে আরও ৬ জন পরিচালক মিলে ২৪ সদস্যের পরিচালনা পর্ষদ গঠন করা হয়। এই পরিচালনা পর্ষদই চিটাগাং চেম্বারের সভাপতি, সিনিয়র সহ-সভাপতি ও সহ-সভাপতি নির্বাচন করতেন। দুইটি শক্তিশালী প্যানেল মনোনয়নপত্র জমা দিয়ে প্রচারণাও চালায়। এরপর মামলা, রিট, আইনি জটিলতায় কয়েক দফা নির্বাচনের তারিখ পরিবর্তিত হয়। সর্বশেষ ৪ এপ্রিল নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করেছিল নির্বাচন বোর্ড। গত ২ এপ্রিল নির্বাচন বোর্ডের চেয়ারম্যান মনোয়ারা বেগম স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে নির্বাচন স্থগিতের বিষয়টি জানানো হয়। 

চেম্বারের একজন সদস্য বলেন, বাণিজ্যিক রাজধানী চট্টগ্রামের প্রধান চেম্বারটি প্রশাসক দিয়ে চলছে দীর্ঘদিন। ইতিমধ্যে বেশ কয়েকজন প্রশাসক দায়িত্ব পালন করেছেন। নির্বাচিত নেতৃত্ব না থাকায় চট্টগ্রামের ব্যবসায়ী, বিনিয়োগকারীরা তাদের সমস্যা সমাধান করতে পারছেন না। তাই একধরনের স্থবিরতা বিরাজ করছে এ জনপদে। চেম্বারের সংঘবিধি, পরিচালক নির্বাচন পদ্ধতি, প্রেসিডিয়াম নির্বাচন পদ্ধতি, ভোটার তালিকা, আইনগত জটিলতাসহ বিভিন্ন বিষয়ে মতভেদ রয়েছে। আশাকরি, সরকার ও সংশ্লিষ্টরা ব্যবসায়ীদের স্বার্থে সব সমস্যা যৌক্তিক আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করে দ্রুতসময়ে নির্বাচন দেবেন। এক্ষেত্রে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ও পদক্ষেপ নিতে পারে। 

মন্তব্য করুন