প্রকাশিত: ২২ মে, ২০২৬, ০৪:৩২ পিএম

অনলাইন সংস্করণ

‘জিরো টলারেন্স’ নীতিতে অনড় ওসি মাহবুবুর রহমান

নিকলীতে ইয়াবাসহ কুখ্যাত মাদক সম্রাট তাজু গ্রেফতার

খাইরুল ইসলাম
দেশের যুবসমাজকে মাদকের মরণব্যাধি থেকে রক্ষা করতে এবং একটি সুস্থ, উন্নত ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ বিনির্মাণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর আপসহীন অভিযানের ধারাবাহিকতায় এবার কিশোরগঞ্জের নিকলীতে এক দুর্ধর্ষ মাদক কারবারিকে আইনের আওতায় আনা হয়েছে। নিকলী থানা পুলিশের এক ঝটিকা অভিযানে ২৫ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট ও মাদক বিক্রির নগদ অর্থসহ মো. তাজুল ইসলাম তাজু (৪৪) নামের এক চিহ্নিত পেশাদার মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিকলী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মাহবুবুর রহমানের প্রত্যক্ষ দিকনির্দেশনায় এবং সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে গত ২২ মে ২০২৬ তারিখ রাত ১২:৩০ মিনিটে এক শ্বাসরুদ্ধকর অভিযান পরিচালিত হয়। থানার চৌকস উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. রোমান খান এবং সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) মো. আমজাদ হোসেনের নেতৃত্বে পুলিশের একটি বিশেষ ফোর্স মজলিশপুর এলাকায় এই যৌথ অভিযান চালায়।
অভিযান চলাকালীন মজলিশপুর ফকির বাড়ির সুন্দু লুসাইয়ের ছেলে এবং ওই এলাকার ত্রাস মো. তাজুল ইসলাম তাজুকে হাতেনাতে গ্রেফতার করা হয়। এ সময় তল্লাশি চালিয়ে তার হেফাজত থেকে ২৫ পিস অবৈধ মাদকদ্রব্য ইয়াবা ট্যাবলেট এবং মাদক বিক্রির নগদ ২,৫৫০ টাকা উদ্ধার করা হয়। তবে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে মজলিশপুর এলাকার একিন আলীর ছেলে দেলোয়ার হোসেন ওরফে দিলদার (২৮) নামের অপর এক সহযোগী কৌশলে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। পলাতক আসামিকে আইনের আওতায় আনতে এবং তার সম্ভাব্য লুকিয়ে থাকার স্থানে পুলিশের চিরুনি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
স্থানীয় ও পুলিশি রেকর্ড পর্যালোচনা করে জানা গেছে, ধৃত আসামি তাজুল ইসলাম তাজু দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় একটি সুসংগঠিত সিন্ডিকেটের মাধ্যমে মাদকের জাল বিস্তার করে আসছিল। তার বিরুদ্ধে ইতিপূর্বেও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের বিভিন্ন ধারায় ৩টি মামলা বিজ্ঞ আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।ধৃত ও পলাতক আসামিদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের সুনির্দিষ্ট ধারায় নতুন মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে এবং আসামিকে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করার আইনি প্রক্রিয়া প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
এই সফল অভিযান প্রসঙ্গে নিকলী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মাহবুবুর রহমান অত্যন্ত দৃঢ়তার সাথে বলেন, "মাদক কেবল একটি অপরাধ নয়, এটি একটি সমাজ ও তার সম্ভাবনাময় যুবসমাজকে ভেতর থেকে ধ্বংস করার মূল হাতিয়ার। একটি সমৃদ্ধ ও মানবিক সমাজ গঠনে মাদকের কোনো স্থান নেই। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী মাদকের বিরুদ্ধে আমাদের 'জিরো টলারেন্স' নীতি কঠোরভাবে বহাল থাকবে। তবে এই সামাজিক ব্যাধি দূর করতে জনসাধারণের সক্রিয় সহযোগিতা ও সামাজিক সচেতনতা একান্ত কাম্য।"

মন্তব্য করুন