প্রকাশিত: ২৬ মে, ২০২৪, ১২:২৪ এ এম
অনলাইন সংস্করণ
আজ বিশ্ব থাইরয়েড দিবস। বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় ৫ কোটি মানুষ থাইরয়েডের নানা সমস্যায় ভুগছেন। অথচ তাদের অর্ধেকেরও বেশি মানুষ জানেন না যে, তারা এই সমস্যায় ভুগছেন।
বাংলাদেশ এন্ডোক্রাইন সোসাইটি (বিইএস) প্রতিবারের মতো এ বছরও বিশ্ব থাইরয়েড দিবস উদযাপন করছে। দেশের সব মানুষের কাছে থাইরয়েড সমস্যাজনিত প্রয়োজনীয় তথ্যগুলো পৌঁছে দেয়া বিইএস-এর মূল উদ্দেশ্য। ২০০৯ সাল থেকে সারা বিশ্বে এ দিবসটি পালিত হচ্ছে।
দিবসটি উদযাপনে উপলক্ষে বাংলাদেশ এন্ডোক্রাইন সোসাইটি দুপুর সাড়ে ১২টায় প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে ‘বৈজ্ঞানিক অধিবেশন’ এবং ‘গর্ভাবস্থায় থাইরয়েড রোগের চিকিৎসার গাইডলাইন’ প্রকাশ অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে।
এ সময় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্যশিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের সচিব, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়সহ দেশবরেণ্য খ্যাতিমান সম্মানিত চিকিৎসকরা
বাংলাদেশে সরকারি পর্যায়ে দিবসটি উদযাপন না হলেও থাইরয়েড রোগ সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলো কয়েক বছর ধরেই দিবসটিকে যথাযথভাবে পালনের উদ্যোগ গ্রহণ করে আসছে।
বর্তমানে বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় ৩০ শতাংশের কাছাকাছি থাইরয়েড রোগে আক্রান্ত বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ এন্ডোক্রাইন সোসাইটি। এদের অর্ধেকের বেশিই জানে না যে তারা থাইরয়েড সমস্যায় ভুগছে।
প্রাপ্তবয়স্ক নারীদের প্রায় ২ শতাংশ এবং পুরুষদের প্রায় ০.২ শতাংশ হাইপার থাইরয়েডিজম (থাইরয়েড হরমোনের বৃদ্ধিজনিত সমস্যা) রোগে ভোগে। ২০ থেকে ৩০ বছর বয়সের মধ্যে এ রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা বেশি। প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষ-নারীদের মধ্যে ৩.৯ থেকে ৯.৪ শতাংশ হারে হাইপোথাইরয়েডিজম (থাইরয়েড হরমোনের ঘাটতি জনিত সমস্যা) থাকতে পারে। আরও প্রায় ৭ শতাংশ নারী ও পুরুষ সাবক্লিনিক্যাল হাইপোথাইরয়েডিজমে ভুগে থাকে।
নবজাতকদেরও থাইরয়েডের হরমোন ঘাটতিজনিত সমস্যা হতে পারে এবং তার হার ১০ হাজার জীবিত নবজাতকের জন্য ২-৮ হতে পারে। বাড়ন্ত শিশুরাও থাইরয়েড হরমোন ঘাটতিতে ভুগতে পারে। এ সময় থাইরয়েডের হরমোন ঘাটতি হলে শিশুদের দৈহিক ও মানসিক বৃদ্ধি ব্যাহত হয়। শিশু-কিশোরদের হাইপোথাইরয়েডিজম হলে তা দ্রুত সমাধান করা না গেলে বুদ্ধিবৃত্তির বিকাশ স্থায়ীভাবে ব্যাহত হবে।
আজ (২৫ মে) পালিত হচ্ছে বিশ্ব থাইরয়েড দিবস। এবারের প্রতিপাদ্য বিষয় ‘থাইরয়েড সমস্যা ও অসংক্রামক রোগ’। ধারণা করা হয়, বাংলাদেশে চার থেকে পাঁচ কোটি মানুষ থাইরয়েডের সমস্যায় আক্রান্ত। বিশ্বে এ সংখ্যা প্রায় ৮০ কোটি।
থাইরয়েড গ্রন্থি অতি প্রয়োজনীয় অন্তঃক্ষরা গ্রন্থি; যা গলার সামনের অংশে অবস্থিত। এটি মানবশরীরের প্রধান বিপাকীয় হরমোন তৈরিকারী গ্ল্যান্ড। থাইরয়েড হরমোনের অন্যতম কাজ শরীরে বিপাকীয় হার বা বেসাল মেটাবলিক রেট বাড়ানো। আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ স্নায়ুর পরিপক্বতা। এ জন্য গর্ভাবস্থায় থাইরয়েড হরমোনের স্বল্পতায় গর্ভস্থ শিশু বোকা হয়।
হাইপার–থাইরয়েডিজমের উপসর্গ
● প্রচণ্ড গরম লাগা, হাত–পা ঘামা।
● পরিপাকতন্ত্রের সমস্যা, খাওয়ার রুচি স্বাভাবিক থাকার পরও ওজন হ্রাস, ঘন ঘন পায়খানা।
● বুক ধড়ফড়, হৃৎস্পন্দন বৃদ্ধি, বুকে ব্যথা।
● স্নায়ু ও মাংসপেশির সমস্যা
● হাড়ের ক্ষয়, মাসিকের সমস্যা, বন্ধ্যত্ব।
কারণ
● গ্রেভস ডিজিজ বা একধরনের অটোইমিউন রোগ। এতে থাইরয়েড ফোলার সঙ্গে সঙ্গে চোখ কোটর থেকে বেরিয়ে আসে।
● মাল্টিনডিউলার গয়টার।
● সলিটারি থাইরয়েড নডিউল।
● থাইরয়েড গ্ল্যান্ডের প্রদাহ বা থাইরয়েডাইটিস।
● অন্য কোনো উৎসের কারণে থাইরয়েড হরমোনের আধিক্য।
● ক্যানসার।
হাইপো–থাইরয়েডিজমের উপসর্গ
● অবসাদ, অলসতা, ঘুম ঘুম ভাব।
● ত্বক খসখসে ও শুষ্কতা।
● মুখ বা পা ফোলা।
● কনজেনিটাল হাইপো–থাইরয়েডিজমে শিশুর মস্তিষ্কের বিকাশ হয় না। এ ছাড়া চুল পড়া, ওজন বৃদ্ধি, স্মৃতিশক্তি হ্রাস, শীত শীত ভাব, কোষ্ঠকাঠিন্য, মেজাজ খিটখিটে, ব্লাড প্রেশার বৃদ্ধি, মাসিকের সমস্যা, বন্ধ্যত্ব, গর্ভপাত।
চিকিৎসা
হাইপার-থাইরয়েডিজমের চিকিৎসা হচ্ছে অ্যান্টিথাইরয়েড ওষুধ। কখনো কখনো অস্ত্রোপচার প্রয়োজন হতে পারে। অ্যান্টিথাইরয়েড ওষুধ বেশির ভাগ ক্ষেত্রে দেড় থেকে দুই বছর ব্যবহার করা হয়।
থাইরয়েডের ক্যানসার
থাইরয়েড গ্রন্থির কোনো অংশ টিউমারের মতো ফুলে উঠলে তাকে বলা হয় থাইরয়েড নডিউল। এসব থাইরয়েড নডিউলের ১ শতাংশ ক্যানসারে পরিণত হতে পারে। থাইরয়েড ক্যানসার সময়মতো চিকিৎসা করলে ৯৫ শতাংশ ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ আরোগ্য সম্ভব।
মন্তব্য করুন