প্রকাশিত: ২ ঘন্টা আগে, ০৮:২৯ পিএম

অনলাইন সংস্করণ

চুরির অপবাদে বেলকুচিতে দুই যুবককে নির্মম নির্যাতন, থানায় মামলা

সিরাজগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি
সিরাজগঞ্জের বেলকুচিতে চুরির অপবাদ দিয়ে দুই যুবককে নির্মমভাবে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় এক যুবকের বাবা ও অপর এক যুবক ১০ জনের নাম উল্লেখ করে থানায় মামলা দায়ের করেছেন। গত ২২তারিখ রবিবার উপজেলার দৌলতপুর বাজারে এ ঘটনা ঘটে।
মামলা সূত্রে জানা যায়, ২২ তারিখ বিকেলে শিমুল হোসেন ইমন ইফতার কেনার জন্য দৌলতপুর বাজারে যান। ইফতার নিয়ে বাড়ি ফিরতে দেরি হলে তার বাবা ইকবাল হোসেন দ্রুত বাজারে গিয়ে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। এক পর্যায়ে লোকমুখে জানতে পারেন, রাশেদুল ইসলামের নেতৃত্বে কয়েকজন শিমুলকে রফিকুল ইসলামের ইলেকট্রনিক্স দোকানের সামনে থেকে একটি মাইক্রোবাসে তুলে ধুলগাগড়াখালী ঈদগাহ মাঠে নিয়ে গেছে।
খবর পেয়ে ইকবাল হোসেন মোটরসাইকেলে করে ঈদগাহ মাঠে গিয়ে দেখেন, বটগাছের নিচে তার ছেলেকে লোহার রড, হাতুড়ি, বাঁশের লাঠি ও কাঠের বাটাম দিয়ে এলোপাতাড়িভাবে মারধর করা হচ্ছে। ছেলেকে বাঁচাতে গেলে তাকেও একইভাবে মারধর করে শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম করা হয়।
পরে তাদের জোরপূর্বক কালো রঙের একটি মাইক্রোবাসে তুলে আবার মারধর করা হয়। শিমুল চিৎকার করলে বাবুসহ কয়েকজন তার হাত-পা চেপে ধরে। অভিযোগ রয়েছে, আমির হামজা তার মুখে আঙুল ঢুকিয়ে ধরে রাখেন এবং মেহেরাফ আলী লোহার রড দিয়ে মুখের ভেতর আঘাত করেন। পরে রাশেদুল হাতুড়ি দিয়ে তার বাম চোখে আঘাত করেন। শিমুল অজ্ঞান হয়ে পড়লে তাকে মৃত ভেবে ধুলগাগড়াখালী জামাই মোড়ের ফাঁকা রাস্তায় ফেলে চলে যায়।
স্থানীয়দের সহযোগিতায় শিমুল ও তার বাবা ইকবাল হোসেনকে সিএনজিযোগে বেলকুচি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। কর্তব্যরত চিকিৎসক শিমুলের অবস্থা আশঙ্কাজনক দেখে তাকে সিরাজগঞ্জ সদর হাসপাতালে রেফার করেন।
অন্যদিকে, নির্যাতনের শিকার এনামুল হক জানান, কয়েক দিন আগে ধুলগাগড়াখালী গ্রামের আব্দুল ওহাবের বাড়িতে চুরি হয়। ওই ঘটনার জেরে তাকে চোর সন্দেহে ২১ তারিখ সকালে কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের সামনে থেকে মোটরসাইকেলে তুলে আজুগড়া বেড়িবাঁধে নিয়ে মারধর করা হয়। তাকে জোর করে চুরির স্বীকারোক্তি দিতে চাপ দেওয়া হয় এবং শিমুল হোসেনের নাম বলতে বাধ্য করা হয়। পরে সেই স্বীকারোক্তির ভিডিও মোবাইলে ধারণ করা হয়।
তিনি আরও বলেন, শিমুলকে ধরার জন্য তাকে ঢাকায় নেওয়া হয়। সেখানে শিমুলকে না পেয়ে বিকেলে ধুলগাগড়াখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠে ফেলে রেখে চলে যায় অভিযুক্তরা।
স্থানীয়রা জানান, গত ১৭ তারিখ রাতে ধুলগাগড়াখালী গ্রামের আব্দুল ওহাব আলীর বাড়িতে চুরির ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার জেরে শিমুল হোসেন ইমন (২২) ও এনামুল হক (১৬)-কে মারধরের বিষয়টি তারা শুনেছেন।
এ বিষয়ে বেলকুচি থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) আইনুল হক বলেন, “ঘটনায় নিয়মিত মামলা হয়েছে। তদন্ত চলছে এবং আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।”

মন্তব্য করুন